ٱلشُّعَرَاء
সূরা শুআরা
কবি
২২৭ আয়াতমাক্কী
সূরা শুআরা (الشعراء, অর্থ: কবি) কুরআনের ২৬ নম্বর সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ, এতে ২২৭টি আয়াত রয়েছে এবং এটি ১৯ নম্বর পারায়, মাদানী মুসহাফের ৩৬৭ পৃষ্ঠা থেকে শুরু।
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
Loading…
সূরা শুআরা — সব আয়াত আরবি ও বাংলা অর্থসহ
শব্দে শব্দে অর্থ, উচ্চারণ ও তাফসীরের জন্য যেকোনো আয়াত খুলুন।
- 26:1طسٓمٓত্ব-সীন-মীম।
- 26:2تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُبِينِএগুলো সুস্পষ্ট (বা সুস্পষ্টকারী) কিতাবের আয়াত।
- 26:3لَعَلَّكَ بَٰخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَতুমি হয়ত এ দুঃখে তোমার প্রাণনাশ করবে যে, তারা মু’মিন হচ্ছে না।
- 26:4إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةً فَظَلَّتْ أَعْنَٰقُهُمْ لَهَا خَٰضِعِينَআমি ইচ্ছে করলে তাদের কাছে আসমান থেকে এমন নিদর্শন পাঠাতাম যে তার সামনে তাদের মাথা নত হয়ে যেত (অর্থাৎ তারা ঈমান আনতে বাধ্য হত)।
- 26:5وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ ٱلرَّحْمَٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا۟ عَنْهُ مُعْرِضِينَতাদের কাছে যখনই দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে নতুন কোন নসীহত আসে তখনই তারা তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
- 26:6فَقَدْ كَذَّبُوا۟ فَسَيَأْتِيهِمْ أَنۢبَٰٓؤُا۟ مَا كَانُوا۟ بِهِۦ يَسْتَهْزِءُونَতারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
- 26:7أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلْأَرْضِ كَمْ أَنۢبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍতারা কি যমীনের দিকে চেয়ে দেখে না, আমি তাতে সব ধরনের উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ পয়দা করেছি।
- 26:8إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَঅবশ্যই এতে নিদর্শন আছে (আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা ক’রে ঈমান আনার জন্য), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
- 26:9وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُনিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মহা পরাক্রমশালী, অতি দয়ালু।
- 26:10وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئْتِ ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَস্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও,
- 26:11قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করে না?
- 26:12قَالَ رَبِّ إِنِّىٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِসে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে মিথ্যে মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করবে।
- 26:13وَيَضِيقُ صَدْرِى وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِى فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَٰرُونَআর আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, আমার জিহ্বা সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে না। কাজেই আপনি হারূনের প্রতি রিসালাত দিন।
- 26:14وَلَهُمْ عَلَىَّ ذَنۢبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِতদুপরি আমার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও তাদের আছে, কাজেই আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে হত্যা করবে।’
- 26:15قَالَ كَلَّا ۖ فَٱذْهَبَا بَِٔايَٰتِنَآ ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَআল্লাহ বললেন, ‘কক্ষনো না, তোমরা দু’জনে আমার (দেয়া) নিদর্শন নিয়ে যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু শুনতে থাকব।
- 26:16فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَকাজেই তোমরা দু’জনে ফেরাউনের কাছে যাও আর গিয়ে বল যে, আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল।
- 26:17أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَবানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’
- 26:18قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَফেরাউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? আর তুমি কি তোমার জীবনের কতকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি?
- 26:19وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ ٱلَّتِى فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَতুমি তোমার কর্ম যা করার করেছ (আমাদের একজন লোককে হত্যা ক’রে), তুমি বড় অকৃতজ্ঞ।’
- 26:20قَالَ فَعَلْتُهَآ إِذًا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَমূসা বলল : ‘আমি তো তা করেছিলাম সে সময় যখন আমি ছিলাম (সঠিক পথ সম্পর্কে) অজ্ঞ।
- 26:21فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِى رَبِّى حُكْمًا وَجَعَلَنِى مِنَ ٱلْمُرْسَلِينَঅতঃপর তোমাদের ভয়ে ভীত হয়ে আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। অতঃপর আমার রবব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন, আর আমাকে করলেন রসূলদের একজন।
- 26:22وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَىَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَতুমি আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের খোঁটা দিচ্ছ তাতো এই যে, তুমি বানী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ।’
- 26:23قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ ٱلْعَٰلَمِينَফেরাউন বলল : ‘বিশ্বজগতের প্রতিপালক আবার কী?’
- 26:24قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَমূসা বলল : ‘(যিনি) আসমান ও যমীন ও এ দু’য়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুর প্রতিপালক- যদি তোমরা নিঃসন্দেহে বিশ্বাসী হও।
- 26:25قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُۥٓ أَلَا تَسْتَمِعُونَফেরাউন তার চারপাশের লোকেদেরকে বলল- ‘তোমরা শুনছ তো?’
- 26:26قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَমূসা বলল : ‘(তিনি) তোমাদের প্রতিপালক ও শুরু থেকে পূর্ববর্তী তোমাদের বাপ-দাদাদেরও প্রতিপালক।’
- 26:27قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِىٓ أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ(ফিরআউন) বলল: ‘তোমাদের রসূল যে তোমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছে সে নিশ্চিতই পাগল।’
- 26:28قَالَ رَبُّ ٱلْمَشْرِقِ وَٱلْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَآ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ(মূসা) বললঃ ‘(তিনিই) পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিপালক, আর এ উভয় দিকের মাঝে যা আছে তারও- যদি তোমাদের বুদ্ধিসুদ্ধি থাকে।’
- 26:29قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذْتَ إِلَٰهًا غَيْرِى لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ ٱلْمَسْجُونِينَ(ফেরাউন) বলল : ‘যদি তুমি আমাকে বাদ দিয়ে (অন্য কিছুকে) ইলাহ হিসেবে গ্রহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে অবশ্য অবশ্যই কারারুদ্ধ করব।’
- 26:30قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَىْءٍ مُّبِينٍ(মূসা) বলল : ‘আমি যদি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট জিনিস নিয়ে আসি তবুও?
- 26:31قَالَ فَأْتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ(ফেরাউন) বলল : ‘তাহলে তা আনো, যদি তুমি সত্যবাদী হও।’
- 26:32فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌতখন মূসা তার লাঠি ছুঁড়ে দিল আর সহসাই তা স্পষ্ট এক অজগর হয়ে গেল।
- 26:33وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِىَ بَيْضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَআর মূসা (বগলের নীচ দিয়ে) নিজের হাত টেনে বের করল, আর তা দর্শকদের সামনে ঝকমক করতে লাগল।
- 26:34قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٌফেরাউন তার চারপাশের প্রধানদের বলল : ‘সে অবশ্যই এক দক্ষ যাদুকর।
- 26:35يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِۦ فَمَاذَا تَأْمُرُونَযাদুর বলে সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন বল তোমাদের নির্দেশ কী?’
- 26:36قَالُوٓا۟ أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَٱبْعَثْ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَতারা বলল : ‘তাকে ও তার ভাইকে (কিছু সময়) অপেক্ষায় ফেলে রাখুন আর জড়ো করার জন্য ঘোষকদেরকে নগরে নগরে পাঠিয়ে দিন।
- 26:37يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍতারা আপনার কাছে প্রত্যেকটি অভিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসবে।’
- 26:38فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍকাজেই যাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল একটি নির্দিষ্ট দিন ক্ষণের জন্য যা ছিল সুবিদিত।
- 26:39وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَআর জনগণকে বলা হল- ‘তোমরা কি সম্মিলিত হবে?
- 26:40لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَযাতে আমরা যাদুকরদের (এবং তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ফেরাউনের) দীন অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।
- 26:41فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُوا۟ لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ ٱلْغَٰلِبِينَযাদুকররা যখন আসলো, তারা ফেরাউনকে বলল : ‘আমরা জয়ী হলে আমাদেরকে পুরস্কার দেয়া হবে তো?’
- 26:42قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَফেরাউন বলল- ‘হাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার নৈকট্যলাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
- 26:43قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلْقُوا۟ مَآ أَنتُم مُّلْقُونَমূসা তাদেরকে বলল- ‘নিক্ষেপ কর যা তোমরা নিক্ষেপ করবে।’
- 26:44فَأَلْقَوْا۟ حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا۟ بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ ٱلْغَٰلِبُونَতখন তারা তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো নিক্ষেপ করল আর তারা বলল- ‘ফেরাউনের ইযযতের শপথ! আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’
- 26:45فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِىَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَঅতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করল। হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গিলতে লাগল।
- 26:46فَأُلْقِىَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَতখন যাদুকররা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল।
- 26:47قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَতারা বলল- ‘আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম রাব্বুল ‘আলামীনের প্রতি,
- 26:48رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَযিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।’
- 26:49قَالَ ءَامَنتُمْ لَهُۥ قَبْلَ أَنْ ءَاذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِى عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَٰفٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَফেরাউন বলল- ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তাতে বিশ্বাস আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের ওস্তাদ যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা (এর পরিণাম) জানতে পারবে। আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত-পাগুলোকে বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর তোমাদের সব্বাইকে অবশ্য অবশ্যই ‘শূলে চড়াব।
- 26:50قَالُوا۟ لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَতারা বলল- কোনই ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের পানে প্রত্যাবর্তন করব।
- 26:51إِنَّا نَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلْمُؤْمِنِينَআমাদের একমাত্র আশা এই যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করবেন, কারণ আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে প্রথম।’
- 26:52۞ وَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِىٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَআমি মূসাকে ওহীযোগে নির্দেশ দিলাম আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিকালে বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
- 26:53فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِى ٱلْمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَঅতঃপর ফেরাউন শহরে নগরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিল।
- 26:54إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ(এই ব’লে যে) এরা (বানী ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
- 26:55وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَآئِظُونَতারা আমাদেরকে অবশ্যই ক্রোধান্বিত করেছে।
- 26:56وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَআর আমরা অবশ্যই সদা সতর্ক একটি দল।
- 26:57فَأَخْرَجْنَٰهُم مِّن جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍএভাবে আমি ফেরাউন গোষ্ঠীকে (তাদের নিজেদেরই) উদ্যানরাজি আর ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিস্কার করলাম।
- 26:58وَكُنُوزٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍআর ধনভন্ডারসমূহ ও সম্মানজনক অবস্থান থেকে।
- 26:59كَذَٰلِكَ وَأَوْرَثْنَٰهَا بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَএভাবেই ঘটেছিল, আমি বানী ইসরাঈলকে এসব কিছুর উত্তরাধিকারী করে দিয়েছিলাম।
- 26:60فَأَتْبَعُوهُم مُّشْرِقِينَকাজেই তারা (অর্থাৎ ফেরাউন গোষ্ঠী) সূর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
- 26:61فَلَمَّا تَرَٰٓءَا ٱلْجَمْعَانِ قَالَ أَصْحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدْرَكُونَযখন দু‘দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বলল- ‘আমরা তো ধরা পড়েই গেলাম।’
- 26:62قَالَ كَلَّآ ۖ إِنَّ مَعِىَ رَبِّى سَيَهْدِينِমূসা বলল- ‘কক্ষনো না, আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, শীঘ্রই তিনি আমাকে পথ নির্দেশ করবেন।
- 26:63فَأَوْحَيْنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْبَحْرَ ۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَٱلطَّوْدِ ٱلْعَظِيمِতখন আমি মূসার প্রতি ওয়াহী করলাম- ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ সুবিশাল পর্বতের ন্যায় হয়ে গেল।
- 26:64وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلَْٔاخَرِينَআমি সেখানে অপর দলটিকে পৌছে দিলাম।
- 26:65وَأَنجَيْنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجْمَعِينَআর মূসা ও তার সঙ্গী সবাইকে উদ্ধার করলাম।
- 26:66ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلَْٔاخَرِينَঅতঃপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে মারলাম।
- 26:67إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَএতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
- 26:68وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُতোমার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
- 26:69وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَওদেরকে ইবরাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দাও।
- 26:70إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَا تَعْبُدُونَযখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর?’
- 26:71قَالُوا۟ نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَতারা বলেছিল- ‘আমরা মূর্তির পূজা করি, আর আমরা সদা সর্বদা তাদেরকে আঁকড়ে থাকি।’
- 26:72قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَইবরাহীম বলল- ‘তোমরা যখন (তাদেরকে) ডাক তখন কি তারা তোমাদের কথা শোনে?
- 26:73أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَকিংবা তোমাদের উপকার করে অথবা অপকার?’
- 26:74قَالُوا۟ بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَতারা বলল- ‘না তবে আমরা আমাদের পিতৃদেরকে এরকম করতে দেখেছি।’
- 26:75قَالَ أَفَرَءَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَসে বলল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের পূজা করে যাচ্ছ?
- 26:76أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلْأَقْدَمُونَতোমরা আর তোমাদের আগের পিতৃপুরুষরা?
- 26:77فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّىٓ إِلَّا رَبَّ ٱلْعَٰلَمِينَতারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্বজগতের পালনকর্তা ছাড়া।
- 26:78ٱلَّذِى خَلَقَنِى فَهُوَ يَهْدِينِতিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।
- 26:79وَٱلَّذِى هُوَ يُطْعِمُنِى وَيَسْقِينِআর তিনিই আমাকে খাওয়ান ও পান করান।
- 26:80وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِআর আমি যখন পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন।
- 26:81وَٱلَّذِى يُمِيتُنِى ثُمَّ يُحْيِينِযিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, পুনরায় আমাকে জীবিত করবেন।
- 26:82وَٱلَّذِىٓ أَطْمَعُ أَن يَغْفِرَ لِى خَطِيَٓٔتِى يَوْمَ ٱلدِّينِআর যিনি, আমি আশা করি- কিয়ামাতের দিন আমার দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।
- 26:83رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّٰلِحِينَহে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অর্ন্তভুক্ত কর।
- 26:84وَٱجْعَل لِّى لِسَانَ صِدْقٍ فِى ٱلَْٔاخِرِينَএবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
- 26:85وَٱجْعَلْنِى مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِএবং আমাকে নি‘য়ামাতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর।
- 26:86وَٱغْفِرْ لِأَبِىٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَআর তুমি আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো গুমরাহদের অর্ন্তভুক্ত।
- 26:87وَلَا تُخْزِنِى يَوْمَ يُبْعَثُونَএবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে অপমানিত করো না।
- 26:88يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَযেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না।
- 26:89إِلَّا مَنْ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍকেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে।
- 26:90وَأُزْلِفَتِ ٱلْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَআর জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে।
- 26:91وَبُرِّزَتِ ٱلْجَحِيمُ لِلْغَاوِينَএবং পথভ্রষ্টদের সম্মুখে জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে।
- 26:92وَقِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَعْبُدُونَআর তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যার ‘ইবাদাত করতে তারা কোথায়
- 26:93مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلْ يَنصُرُونَكُمْ أَوْ يَنتَصِرُونَআল্লাহকে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে কিংবা তাদের নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে?
- 26:94فَكُبْكِبُوا۟ فِيهَا هُمْ وَٱلْغَاوُۥنَঅতঃপর তাদেরকে ও পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে মুখের ভরে নিক্ষেপ করা হবে।
- 26:95وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَআর ইবলীসের দলবল সবাইকে।
- 26:96قَالُوا۟ وَهُمْ فِيهَا يَخْتَصِمُونَসেখানে তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলবে,
- 26:97تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ‘আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্য স্পষ্ট গুমরাহীতে ছিলাম।
- 26:98إِذْ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَযখন আমরা তোমাদেরকে সর্বজগতের পালনকর্তার সমকক্ষ স্থির করতাম।
- 26:99وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلْمُجْرِمُونَঅপরাধীরাই আমাদেরকে গোমরাহ্ করেছিল।
- 26:100فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَকাজেই আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
- 26:101وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍএকজন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।
- 26:102فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَআমাদের যদি একটিবার পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমরা মু’মিনদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যেতাম।
- 26:103إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَএতে অবশ্যই নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।
- 26:104وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُতোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
- 26:105كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ ٱلْمُرْسَلِينَনূহের কওম রসুলগণকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখান করেছিল।
- 26:106إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَযখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি ভয় করবে না (আল্লাহকে)?
- 26:107إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌআমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
- 26:108فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমার অনুসরণ কর।
- 26:109وَمَآ أَسَْٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَআমি তার জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছেই আছে।’
- 26:110فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
- 26:111۞ قَالُوٓا۟ أَنُؤْمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلْأَرْذَلُونَতারা বলল- ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস করব যখন তোমার অনুসরণ করছে একেবারে নিম্নশ্রেণীর লোকেরা।’
- 26:112قَالَ وَمَا عِلْمِى بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَনূহ বলল- ‘তারা কী করত সেটা আমার জানা নেই।
- 26:113إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّى ۖ لَوْ تَشْعُرُونَতাদের হিসাব নেয়া তো আমার প্রতিপালকের কাজ, যদি তোমরা বুঝতে!
- 26:114وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلْمُؤْمِنِينَমু’মিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
- 26:115إِنْ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌআমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
- 26:116قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمَرْجُومِينَতারা বলল- ‘হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।’
- 26:117قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوْمِى كَذَّبُونِনূহ বলল- ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় আমাকে প্রত্যাখান করছে।
- 26:118فَٱفْتَحْ بَيْنِى وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِى وَمَن مَّعِىَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَকাজেই তুমি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দাও, আর আমাকে ও আমার সঙ্গী মু’মিনদেরকে ক্ষমা কর।’
- 26:119فَأَنجَيْنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِঅতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে বোঝাই নৌযানে রক্ষা করলাম।
- 26:120ثُمَّ أَغْرَقْنَا بَعْدُ ٱلْبَاقِينَতারপর অবশিষ্ট সবাইকে ডুবিয়ে দিলাম।
- 26:121إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَঅবশ্যই এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
- 26:122وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُতোমার প্রতিপালক, অবশ্যই তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, পরম দয়ালু।
- 26:123كَذَّبَتْ عَادٌ ٱلْمُرْسَلِينَ‘আদ সম্প্রদায় রসূলগণকে মিথ্যে সাব্যস্ত করেছিল।
- 26:124إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَযখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
- 26:125إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌআমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) এক বিশ্বস্ত রসুল।
- 26:126فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
- 26:127وَمَآ أَسَْٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَআর এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান আছে কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
- 26:128أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةً تَعْبَثُونَতোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ?
- 26:129وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَআর বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ. যেন তোমরা চিরদিন থাকবে?
- 26:130وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَআর যখন তোমরা (দুর্বল শ্রেণীর লোকদের উপর) আঘাত হান, তখন আঘাত হান নিষ্ঠুর মালিকের মত।
- 26:131فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
- 26:132وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِىٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعْلَمُونَভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে যাবতীয় বস্তু দান করেছেন যা তোমাদের জানা আছে।
- 26:133أَمَدَّكُم بِأَنْعَٰمٍ وَبَنِينَযিনি তোমাদেরকে দান করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্তুতি।
- 26:134وَجَنَّٰتٍ وَعُيُونٍআর উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ।
- 26:135إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍআমি তোমাদের জন্য মহা দিবসের শাস্তির ভয় করছি।’
- 26:136قَالُوا۟ سَوَآءٌ عَلَيْنَآ أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُن مِّنَ ٱلْوَٰعِظِينَতারা বলল- ‘তুমি নসীহত কর আর না কর, আমাদের জন্য দু’ই সমান।
- 26:137إِنْ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلْأَوَّلِينَএসব (কথাবার্তা বলা) পূর্ববর্তী লোকেদের অভ্যাস ছাড়া আর অন্য কিছুই না।
- 26:138وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَআমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না।’
- 26:139فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَٰهُمْ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَঅতঃপর তারা তাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করল। তখন আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
- 26:140وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُএবং তোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
- 26:141كَذَّبَتْ ثَمُودُ ٱلْمُرْسَلِينَসামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- 26:142إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَযখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল- তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
- 26:143إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌআমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রসূল।
- 26:144فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
- 26:145وَمَآ أَسَْٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَআর এজন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো আছে একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট।
- 26:146أَتُتْرَكُونَ فِى مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَতোমাদেরকে কি এখানে যে সব (ভোগ বিলাস) আছে তাতেই নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
- 26:147فِى جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍউদ্যানরাজি আর ঝার্ণাসমূহে।
- 26:148وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌআর শষ্যক্ষেতে ও ফুলে আচ্ছাদিত (ফলে ভারাক্রান্ত) খেজুর বাগানে?
- 26:149وَتَنْحِتُونَ مِنَ ٱلْجِبَالِ بُيُوتًا فَٰرِهِينَএবং তোমরা দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে গৃহ নির্মাণ করছ।
- 26:150فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
- 26:151وَلَا تُطِيعُوٓا۟ أَمْرَ ٱلْمُسْرِفِينَএবং সীমালঙ্ঘনকারীদের নির্দেশ মান্য কর না।
- 26:152ٱلَّذِينَ يُفْسِدُونَ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَযারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সংস্কার করে না।’
- 26:153قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَতারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
- 26:154مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بَِٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَতুমি আমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছুই না। কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে একটা নিদর্শন হাজির কর।
- 26:155قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُومٍসালিহ বলল- ‘এই একটি উটনি, এর জন্য আছে পানি পানের পালা আর তোমাদের জন্য আছে পানি পানের পালা নির্ধারিত দিনে।
- 26:156وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابُ يَوْمٍ عَظِيمٍঅনিষ্ট সাধনের নিমিত্তে তাকে স্পর্শ কর না, তাহলে তোমাদেরকে মহা দিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
- 26:157فَعَقَرُوهَا فَأَصْبَحُوا۟ نَٰدِمِينَকিন্তু তারা তাকে বধ করল, ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
- 26:158فَأَخَذَهُمُ ٱلْعَذَابُ ۗ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَঅতঃপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
- 26:159وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُআর তোমার প্রতিপালক তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, বড়ই দয়ালু।
- 26:160كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ ٱلْمُرْسَلِينَলূতের সম্প্রদায় রসুলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- 26:161إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَযখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
- 26:162إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌআমি তো তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রসূল।
- 26:163فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর।
- 26:164وَمَآ أَسَْٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَআমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
- 26:165أَتَأْتُونَ ٱلذُّكْرَانَ مِنَ ٱلْعَٰلَمِينَজগতের সকল প্রাণীর মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সঙ্গে উপগত হও,
- 26:166وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُم مِّنْ أَزْوَٰجِكُم ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ عَادُونَএবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ত্যাগ কর? রবং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’
- 26:167قَالُوا۟ لَئِن لَّمْ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْمُخْرَجِينَতারা বলল- ‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তবে তুমি অবশ্য অবশ্যই বহিস্কৃত হবে।’
- 26:168قَالَ إِنِّى لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلْقَالِينَলূত বলল- ‘আমি তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করি।
- 26:169رَبِّ نَجِّنِى وَأَهْلِى مِمَّا يَعْمَلُونَহে আমার প্রতিপালক! তারা যা করে তা থেকে তুমি আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে রক্ষা কর।’
- 26:170فَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَঅতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করলাম
- 26:171إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَএক বৃদ্ধা ছাড়া। সে ছিল পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
- 26:172ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلَْٔاخَرِينَঅতঃপর অন্যদের সকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলাম।
- 26:173وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلْمُنذَرِينَতাদের উপর বর্ষণ করলাম (শাস্তির) বৃষ্টি, ভয় প্রদর্শিতদের জন্য এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ!
- 26:174إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَনিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
- 26:175وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُতোমার প্রতিপালক, তিনি মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
- 26:176كَذَّبَ أَصْحَٰبُ لَْٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَবনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- 26:177إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَযখন শু‘আয়ব তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?
- 26:178إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌআমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল।
- 26:179فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِকাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর।
- 26:180وَمَآ أَسَْٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَএ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো রয়েছে একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট।
- 26:181۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَমাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও আর যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
- 26:182وَزِنُوا۟ بِٱلْقِسْطَاسِ ٱلْمُسْتَقِيمِসঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে।
- 26:183وَلَا تَبْخَسُوا۟ ٱلنَّاسَ أَشْيَآءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَমানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিবে না। আর পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।
- 26:184وَٱتَّقُوا۟ ٱلَّذِى خَلَقَكُمْ وَٱلْجِبِلَّةَ ٱلْأَوَّلِينَএবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী বংশাবলীকে সৃষ্টি করেছেন।’
- 26:185قَالُوٓا۟ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلْمُسَحَّرِينَতারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন।
- 26:186وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلْكَٰذِبِينَতুমি আমাদের মতই মানুষ বৈ নও, আমরা মনে করি তুমি অবশ্য মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
- 26:187فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَতুমি সত্যবাদী হলে আকাশের এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।’
- 26:188قَالَ رَبِّىٓ أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَশু‘আয়ব বলল- ‘তোমরা যা কর, আমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে বেশি অবগত।’
- 26:189فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ ٱلظُّلَّةِ ۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍকিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি পাকড়াও করল। তা ছিল এক মহা দিবসের ‘আযাব।
- 26:190إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لََٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَএতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
- 26:191وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُআর তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু।
- 26:192وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَঅবশ্যই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।
- 26:193نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُবিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) একে নিয়ে অবতরণ করেছে
- 26:194عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَতোমার অন্তরে যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
- 26:195بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِينٍসুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
- 26:196وَإِنَّهُۥ لَفِى زُبُرِ ٱلْأَوَّلِينَপূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে।
- 26:197أَوَلَمْ يَكُن لَّهُمْ ءَايَةً أَن يَعْلَمَهُۥ عُلَمَٰٓؤُا۟ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَএটা কি তাদের জন্য নিদর্শন নয় যে, বানী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানত (যে তা সত্য)।
- 26:198وَلَوْ نَزَّلْنَٰهُ عَلَىٰ بَعْضِ ٱلْأَعْجَمِينَআমি যদি তা কোন অনারবের প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
- 26:199فَقَرَأَهُۥ عَلَيْهِم مَّا كَانُوا۟ بِهِۦ مُؤْمِنِينَঅতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাস আনত না।
- 26:200كَذَٰلِكَ سَلَكْنَٰهُ فِى قُلُوبِ ٱلْمُجْرِمِينَএভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
- 26:201لَا يُؤْمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُا۟ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَতারা এর প্রতি ঈমান আনবে না যতক্ষণ না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
- 26:202فَيَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَকাজেই তা তাদের কাছে হঠাৎ এসে পড়বে, তারা কিছুই বুঝতে পারবে না।
- 26:203فَيَقُولُوا۟ هَلْ نَحْنُ مُنظَرُونَতারা তখন বলবে- ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
- 26:204أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَতারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
- 26:205أَفَرَءَيْتَ إِن مَّتَّعْنَٰهُمْ سِنِينَতুমি কি ভেবে দেখেছ আমি যদি তাদেরকে কতক বছর ভোগ বিলাস করতে দেই,
- 26:206ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُوا۟ يُوعَدُونَঅতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ের ও‘য়াদা দেয়া হত তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
- 26:207مَآ أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا۟ يُمَتَّعُونَতখন তাদের বিলাসের সামগ্রী তাদের কোন উপকারে আসবে না।
- 26:208وَمَآ أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَআমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য কোন ভয় প্রদর্শনকারী ছিল না
- 26:209ذِكْرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَস্মরণ করানোর জন্য। আমি কখনো অন্যায়কারী নই।
- 26:210وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُশয়ত্বানরা তা (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেনি।
- 26:211وَمَا يَنۢبَغِى لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَতারা এ কাজের যোগ্য নয় আর তারা এর সামর্থ্যও রাখে না।
- 26:212إِنَّهُمْ عَنِ ٱلسَّمْعِ لَمَعْزُولُونَতাদেরকে এটা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে রাখা হয়েছে।
- 26:213فَلَا تَدْعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلْمُعَذَّبِينَকাজেই তুমি অন্য কোন ইলাহ্কে আল্লাহর সঙ্গে ডেক না। ডাকলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
- 26:214وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَআর তুমি সতর্ক কর তোমার নিকটাত্মীয় স্বজনদের
- 26:215وَٱخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَযে সকল বিশ্বাসীরা তোমার আনুগত্য করে তাদের জন্য তুমি তোমার অনুকম্পার বাহু প্রসারিত কর।
- 26:216فَإِنْ عَصَوْكَ فَقُلْ إِنِّى بَرِىٓءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَতারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তাহলে তুমি বলে দাও- তোমরা যা কর তার সঙ্গে আমি সম্পর্কহীন।
- 26:217وَتَوَكَّلْ عَلَى ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِআর তুমি প্রবল পরাক্রান্ত পরম দয়ালুর উপর নির্ভর কর;
- 26:218ٱلَّذِى يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُযিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাযের জন্য) দন্ডায়মান হও।
- 26:219وَتَقَلُّبَكَ فِى ٱلسَّٰجِدِينَআর (তিনি দেখেন) সাজদাকারীদের সঙ্গে তোমার চলাফিরা।
- 26:220إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُতিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।
- 26:221هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُআমি কি তোমাদেরকে জানাব কাদের নিকট শয়ত্বানরা অবতীর্ণ হয়।
- 26:222تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍতারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি চরম মিথ্যুক ও পাপীর নিকট।
- 26:223يُلْقُونَ ٱلسَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَٰذِبُونَওরা কান পেতে থাকে আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
- 26:224وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلْغَاوُۥنَবিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে,
- 26:225أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِى كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَতুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
- 26:226وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَআর তারা যা বলে তা তারা নিজেরা করে না।
- 26:227إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا وَٱنتَصَرُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا۟ ۗ وَسَيَعْلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓا۟ أَىَّ مُنقَلَبٍ يَنقَلِبُونَকিন্তু ওরা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আর আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণ করে আর নির্যাতিত হওয়ার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে। যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ (মহা সংকটময়) জায়গায় তারা ফিরে যাচ্ছে।
সূরা শুনুনMishary Alafasy